স্মৃতির পাতায় এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচ: বিদায় বেলা ও শেষ মুহূর্তের গাইডলাইন | Raihans Academy
স্মৃতির পাতায় এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচ
রাইহানস একাডেমীর বিদায় বেলার আবেগ এবং শেষ মুহূর্তের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গাইডলাইন
গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখটি আমার শিক্ষকতা জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় এবং আবেগঘন দিন হয়ে থাকবে। এই দিনে সম্পন্ন হলো আমার অত্যন্ত প্রিয় এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের ফেয়ারওয়েল (HSC 2026 Batch Farewell)। একটি ব্যাচের বিদায় লগ্নে এসে হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায় দীর্ঘ দুইটা বছর ওদের নিয়ে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের কথা। ক্লাসে ওদের 'বাচ্চারা' বলে ডাক দেওয়ার সেই চেনা দিনগুলো, ক্লাসের মাঝে একটুখানি দুষ্টুমি, আর মন দিয়ে পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার মুহূর্তগুলো এখন শুধুই স্মৃতি।
ওদের আমি সবসময় আমার নিজের ভাই ও বোনের মতো করেই পড়িয়েছি এবং আগলে রেখেছি। আজ খুব মনে পড়ে, সেই প্রথম দিন যখন ছেলেমেয়েগুলো কোচিংয়ে এসেছিলো—তখন তারা যে ভেতরে ভেতরে সবাই সবাইকে আগে থেকেই চিনতো, সেইটা আমি জানতামই না! দেখতে দেখতে দুটো বছর কেটে গেল, আর আজ ওরা দরজায় কড়া নাড়ছে জীবনের অন্যতম বড় একটি পরীক্ষার জন্য।
১. অনুষ্ঠানের সকাল: কিছু তাড়াহুড়ো আর সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা
বিদায় অনুষ্ঠানের দিন সকাল বেলা আমার নিজের কলেজে এডমিটের কিছু জরুরি কাজ ছিলো। তাই মনটা একটু খচখচ করছিলো যে সবকিছু ঠিকঠাক সময়ে শুরু করা যাবে তো? আমাদের সিয়াম স্যার কে যখন জিজ্ঞাসা করলাম, "তুমি কি সব কিছু গুছিয়ে রাখতে পারবে?" সে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসিমুখে বললো, "স্যার আপনার কোনো টেনশন নেই। আমি সব ম্যানেজ করে ফেলতেছি।" খাবার অর্ডার থেকে শুরু করে ডেকোরেশন—সবকিছুই সে একাই সামলাবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করলো।
আমি নিশ্চিন্তে কলেজে চলে গেলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই দুপুরের দিকে খবর পেলাম, কোচিংয়ে নাকি এখনো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা চলে এসেছে! তখনো আমি কলেজের কাজ করছি। কি আর করা, কলেজের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করে এক ছুটে কোচিং এ গেলাম। গিয়ে দেখলাম, আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা মন প্রাণ দিয়ে কোচিং সাজানোর কাজ করছে। ওদের সেই আগ্রহ দেখে আমার ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে গেল। আমিও দেরি না করে ওদের সাথে জয়েন করলাম। শিক্ষার্থী ইতমাম, রাফি, niশান মিলে মনের আনন্দে বেলুন ফুলাচ্ছিলো। আমি (রায়হান স্যার) এবং কামরুল স্যার মিলে ক্লাসের ফ্যান ঠিক করতেছিলাম। এভাবেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মিলে পুরো কোচিং সাজিয়ে দ্রুত বাসায় এলাম রেডি হওয়ার জন্য।
২. আবেগ ও দিকনির্দেশনামূলক বিদায়ী অনুষ্ঠান
রেডি হয়ে কোচিং এ পৌঁছাতেই অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল। সিয়াম স্যার আসতে একটু লেট করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা হুড়োহুড়ি আর উত্তেজনা শুরু হয়ে গিয়েছিলো। দেখতে দেখতে পুরো ক্লাসরুম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে গেল। অনুষ্ঠান শুরু হতেই প্রথমে কামরুল স্যার তাঁর মূল্যবান এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা শুরু করলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলের শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বললেন। এরপর রিয়াজুল স্যার তাঁর বক্তৃতায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি এবং দিকনির্দেশনা দিলেন।
সবশেষে আমার (রায়হান স্যার) বক্তৃতা দেওয়ার পালা এলো। শিক্ষক হিসেবে মনের গভীর থেকে ওদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং জীবনের সবচেয়ে দরকারি কথাগুলো বললাম। সামনেই ওদের এইচএসসি পরীক্ষা, তাই আবেগ ধরে রেখে ওদের কিছু ফাইনাল টিপস দেওয়াটা খুব জরুরি ছিলো। আমি ওদের বললাম, পরীক্ষার হলে ওএমআর (OMR) শিট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং ঠিকঠাক পূরণ করতে হবে। ঠান্ডা মাথায় নিজের রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দাগাতে হবে, কারণ এখানে একটা ছোট ভুল পুরো বছরের পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। আর মিলন স্যারের ভয়ের কথা মাথায় রেখে আবার কেউ যেন ভুল করেও পরীক্ষার খাতায় কোনো প্রশ্নের উত্তর ফাঁকা রেখে না আসে, সেই ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিলাম। যা পারো, প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে খাতা সুন্দর করে লিখে আসবে।
৩. মেধার মূল্যায়ন: কুইজ ও মডেল টেস্টের পুরস্কার বিতরণী
দিকনির্দেশনা শেষে এলো কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার বিতরণের মুহূর্ত। আমাদের রাইহানস একাডেমী (Raihans Academy)-এর পক্ষ থেকে মেধারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। যেহেতু আমি ওদের দীর্ঘ দুই বছর ধরে বায়োলজি (Biology) এবং আইসিটি (ICT) পড়িয়েছি, তাই আমার এই দুই বিষয়ের ওপর নেওয়া ফাইনাল মডেল টেস্টে যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে, তাদের হাতে মেধা পুরস্কার তুলে দিলাম। ওদের মুখের সেই চওড়া হাসিটাই একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এরপর সিয়াম স্যারও তাঁর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিশেষ গিফট দিলেন।
পুরস্কার বিতরণের পর পরিবেশটাকে আরও একটু আনন্দময় করতে আয়োজন করা হয়েছিলো একটি চমৎকার তাৎক্ষণিক কুইজ প্রতিযোগিতা। সেখানে সাধারণ জ্ঞান এবং আমাদের সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা দারুণ পারফর্ম করেছে! কুইজে যারা ১ম, ২য় ও ৩য় হয়েছে, তাদেরও আকর্ষণীয় গিফট দেওয়া হলো।
৪. রায়হান স্যারের স্পেশাল গাইডলাইন: এইচএসসি আইসিটি ও বায়োলজি প্রস্তুতি
বিদায় অনুষ্ঠানে তো সব কথা ডিটেইলসে বলা সম্ভব হয়নি, তাই এই ব্লগের মাধ্যমে আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তের কিছু গোল্ডেন টিপস শেয়ার করছি:
📌 এইচএসসি আইসিটি (HSC ICT) পরীক্ষার টিপস:
📌 এইচএসসি বায়োলজি (HSC Biology) পরীক্ষার টিপস:
৫. পরীক্ষার হলের মানসিক চাপ বা এক্সাম ফোবিয়া দূর করার উপায়
৬. বিদায়ের শেষ প্রহর: কেক কাটা ও ছবি তোলার অমলিন স্মৃতি
পুরস্কার বিতরণী আর দীর্ঘ আলোচনার পর এলো বিদায়ের শেষ মুহূর্তটি। আনন্দ, উল্লাস আর ভেতরের লুকিয়ে থাকা আবেগের এক অদ্ভুত মিশ্রণে আমরা সবাই মিলে বিদায়ী কেক কাটলাম। এরপর শুরু হলো স্মৃতিগুলোকে ফ্রেমে বন্দি করার পালা। শিক্ষার্থীদের মিষ্টি সব আবদারে ওদের সাথে একে একে একক (Single) এবং দলগত (Group) অনেকগুলো ছবি তুললাম। হাসিমুখের সেই ছবিগুলোর পেছনে যে কত কষ্ট আর বিচ্ছেদের বেদনা লুকিয়ে ছিলো, তা হয়তো আমরা শিক্ষকেরাই বুঝতে পারছিলাম।
ছবি তোলার পর্ব শেষ হতেই আকাশের মুখ ভার হয়ে এলো এবং বৃষ্টি শুরু হওয়ার উপক্রম হলো। তাই ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আমি সবাইকে নিরাপদে নিজ নিজ বাসায় ফেরার জন্য ছেড়ে দিলাম। যাওয়ার আগে অনেক শিক্ষার্থী আমার জন্য খুব সুন্দর সুন্দর সব উপহার নিয়ে এসেছিলো। ওদের এই ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা আমার হৃদয়কে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। সকল শিক্ষার্থীকে মন থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে, শুভকামনা জানিয়ে এবং পরম ভালোবাসা প্রকাশ করে আমাদের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানটি শেষ করলাম।

.jpeg)
.jpeg)