১ম অধ্যায়ের সকল জ্ঞানমূলক এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর ।। Raihans Academy
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন সম্ভার
অধ্যায় ১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
১. জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
২. অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. কানেক্টিভিটি বিশ্বগ্রামের মূল চালিকাশক্তি- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিশ্বগ্রামের মূল ভিত্তি হলো নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়, তখনই তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়। এই ইন্টারনেট সংযোগ বা কানেক্টিভিটি ছাড়া বিশ্বগ্রামের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তাই একে মূল চালিকাশক্তি বলা হয়।
২. তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিশ্বগ্রাম এমন একটি ধারণা যেখানে ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধা নয়। তথ্য প্রযুক্তির (ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, কম্পিউটার) কল্যাণে মানুষ এখন ঘরে বসেই মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে। প্রযুক্তির এই সমন্বিত রূপই বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করেছে।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আগে কোনো তথ্য বা খবর পেতে অনেক সময় লাগত, কিন্তু এখন আইসিটির কল্যাণে একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে সেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো তথ্য জানা যায়। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা বা বিনোদন—সবকিছুই এখন ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে হাতের নাগালে চলে এসেছে।
৪. তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের কাজ করে, আর যোগাযোগ প্রযুক্তি সেই তথ্যকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া তথ্যের কোনো মূল্য নেই, আবার তথ্য ছাড়া যোগাযোগ করার কিছু থাকে না। তাই এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল বা পরিপূরক।
৫. ইন্টারনেটকে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড বলা হয় কেন?
উত্তর: মানুষের শরীর যেমন মেরুদণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি বিশ্বগ্রামের পুরো কাঠামোটি ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং ডেটা একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে বিশ্বগ্রামের কার্যক্রম চালু রাখে। ইন্টারনেট না থাকলে বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
৬. তথ্য প্রযুক্তি পৃথিবীর মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আগে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যোগাযোগ করতে অনেক দিন সময় লাগত। এখন ভিডিও কলিং, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-মেইলের মাধ্যমে দূরবর্তী কোনো মানুষের সাথে এমনভাবে যোগাযোগ করা যায় যেন তারা সামনাসামনি আছে। এভাবেই আইসিটি ভৌগোলিক দূরত্বকে কমিয়ে দিয়েছে।
৭. ICT-এর মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 'টেলিমেডিসিন' পদ্ধতির মাধ্যমে ডাক্তার এবং রোগী সরাসরি উপস্থিত না থেকেও ইন্টারনেটের সাহায্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অনলাইনে প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করা সম্ভব।
৮. বিশ্বগ্রাম কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিশ্বগ্রামের ফলে কর্মসংস্থান এখন আর সীমানার মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। একজন ব্যক্তি ঘরে বসেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (যেমন- ফ্রিল্যান্সিং) বিদেশের বিভিন্ন কাজ করতে পারছে। এছাড়াও ই-কমার্স ও আইটি সেক্টরে নতুন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৯. ICT শিক্ষায় শিক্ষিত জনবলের উপার্জনের সহজ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যাদের আইসিটি বা প্রযুক্তিতে দক্ষতা আছে, তারা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগ পায়। গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং বা ডাটা এন্ট্রির মতো কাজ শিখে মানুষ ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে।
১০. ফ্রিল্যান্সিং সাইটের কাজ কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে নিয়োগকারী (Client) তার কাজের বিজ্ঞাপন দেয় এবং দক্ষ ব্যক্তিরা (Freelancer) সেই কাজ সম্পন্ন করে দেয়। এটি কাজদাতা এবং কর্মীর মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
১১. আউটসোর্সিং বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাইরের অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং বলে। এটি খরচ কমায় এবং দক্ষ জনবল দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ দেয়।
১২. ই-গভর্নেন্স বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলে। এর ফলে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং সময় সাশ্রয় হয়।
১৩. স্মার্ট হোম কেন আরামদায়ক?
উত্তর: স্মার্ট হোমে ইন্টারনেট ও সেন্সরের সাহায্যে লাইট, এসি, টিভি বা দরজার লক রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ঘরে না থেকেও এই ডিভাইসগুলো পরিচালনা করা যায় বলে এটি জীবনকে অনেক সহজ ও আরামদায়ক করে তোলে।
১৪. ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের সুবিধা লেখ।
উত্তর: ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সাথে সশরীরে উপস্থিত না হয়েও সরাসরি দেখা ও কথা বলা যায়। এটি ভ্রমণের খরচ ও সময় বাঁচায় এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।
১৫. ই-লার্নিং শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে সহায়ক- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে যে কেউ যেকোনো স্থানে বসে নামী-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেকচার বা কোর্স করতে পারে। টাকার অভাব বা দূরত্বের কারণে যারা শিক্ষা নিতে পারে না, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা সহজেই শিখতে পারছে।
১৬. ঘরে বসে কেনাকাটা করা যায়- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ই-কমার্সের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিভিন্ন অনলাইন শপ থেকে পণ্য পছন্দ করে অর্ডার দেওয়া যায়। ক্যাশ অন ডেলিভারি বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই পণ্য হাতে পাওয়া যায়, যা সময় ও পরিশ্রম বাঁচায়।
১৭. রিজার্ভেশন সিস্টেমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অনলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্রেন, বাস বা বিমানের টিকিট বুক করা যায়। এতে স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে না এবং সহজেই সিট নিশ্চিত করা যায়।
১৮. ই-কমার্স একটি আধুনিক বাণিজ্য ব্যবস্থা- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ঐতিহ্যগত বাণিজ্যে সশরীরে দোকানে যেতে হয়, কিন্তু ই-কমার্সে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা কেনাকাটা করা যায়। এটি বিশ্বব্যাপী বাজার ধরার সুযোগ করে দেয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমায়।
১৯. অফিস অটোমেশন কাজের গতি বাড়ায়- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অফিসের কাজগুলো যখন ম্যানুয়ালি না করে কম্পিউটারের সাহায্যে করা হয়, তখন নির্ভুলতা ও দ্রুততা বৃদ্ধি পায়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফাইল সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করা যায় বলে কাজের সময় অনেক কমে আসে।
২০. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে নিরাপদে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয় যা দেখতে হুবহু বাস্তবের মতো। এখানে কোনো সত্যিকারের গাড়ি বা রাস্তা ছাড়াই শিক্ষার্থী ড্রাইভিং প্র্যাকটিস করতে পারে, ফলে কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে না।
২১. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা VR হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি কৃত্রিম পরিবেশ, যেখানে ব্যবহারকারী নিজেকে বাস্তবের মতো মনে করেন। এতে মাথায় বিশেষ হেডসেট এবং হাতে সেন্সরযুক্ত গ্লাভস পরে ত্রিমাত্রিক জগতের অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
২২. চিকিৎসাক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: জটিল অপারেশনের আগে ডাক্তাররা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে অপারেশনটি প্র্যাকটিস করতে পারেন। এতে রোগীর জীবনের ঝুঁকি কমে এবং ডাক্তারদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও পঙ্গু রোগীদের থেরাপি দিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
২৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তাকে যখন যন্ত্র বা কম্পিউটারের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে রূপ দেওয়া হয়, তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI বলে। এর মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নিতে ও শিখতে পারে।
২৪. নিউরাল নেটওয়ার্ক কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র বা নিউরন যেভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে কাজ করে, ঠিক সেই অনুকরণে তৈরি কম্পিউটার সিস্টেমকে নিউরাল নেটওয়ার্ক বলে। এটি জটিল তথ্য বিশ্লেষণ ও প্যাটার্ন চিনতে সাহায্য করে।
২৫. রোবটিক্স একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিজ্ঞান- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রোবটিক্স হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে রোবটের নকশা, নির্মাণ এবং প্রয়োগ নিয়ে কাজ করা হয়। এতে ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্স এবং কম্পিউটার সায়েন্সের সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বা রোবট তৈরি করা হয়।
২৬. ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবট ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যেসব কাজ মানুষের জন্য জীবনহানিকর (যেমন: খনির ভেতর কাজ করা, বোমা নিষ্ক্রিয় করা বা রাসায়নিক কারখানায় কাজ), সেখানে রোবট ব্যবহার করা নিরাপদ। রোবট ক্লান্ত না হয়ে এবং ঝুঁকিহীনভাবে সুক্ষ্ম কাজ করতে পারে।
২৭. মহাকাশ অভিযানে আইসিটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মহাকাশযানে মানুষ না পাঠিয়ে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত রোবট বা ড্রোন পাঠানো হয়। আইসিটির সাহায্যে পৃথিবী থেকে মহাকাশযানের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান থেকে পাঠানো ছবি বা তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।
২৮. ক্রায়োসার্জারি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক্রায়োসার্জারি হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (তরল নাইট্রোজেন বা আর্গন গ্যাস ব্যবহার করে) শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলো ধ্বংস করা হয়।
২৯. ক্রায়োসার্জারিতে তরল নাইট্রোজেন কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: তরল নাইট্রোজেন অত্যন্ত শীতল (প্রায় -১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। ক্রায়োসার্জারিতে এই শীতল তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় যাতে আক্রান্ত কোষগুলোকে দ্রুত জমিয়ে ফেলে ধ্বংস করা যায়।
৩০. শীতলীকরণের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এটি মূলত ক্রায়োসার্জারিকে নির্দেশ করে। এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত জায়গায় অতিরিক্ত ঠান্ডা প্রয়োগ করে রক্তপাতহীনভাবে অপারেশন সম্পন্ন করা যায়। এটি বর্তমান সময়ের একটি আধুনিক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা।
৩১. বায়োমেট্রিক্স একটি অদ্বিতীয় শনাক্তকরণ পদ্ধতি- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য (যেমন- আঙুলের ছাপ, চোখের মণি) বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা হয়। যেহেতু এক মানুষের বৈশিষ্ট্যের সাথে অন্য মানুষের মিল থাকে না, তাই এটি অদ্বিতীয় বা নিখুঁত শনাক্তকরণ পদ্ধতি।
৩২. আঙুলের ছাপ কেন বায়োমেট্রিক্সে জনপ্রিয়?
উত্তর: আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট অত্যন্ত সহজলভ্য এবং এটি প্রত্যেকের জন্য আলাদা। এটি ব্যবহার করা সহজ, সস্তা এবং তুলনামূলক বেশি নিরাপদ হওয়ায় এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
৩৩. চোখের মণি বা আইরিশ শনাক্তকরণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এই পদ্ধতিতে ক্যামেরার মাধ্যমে মানুষের চোখের মণির চারপাশের রঙিন বৃত্তাকার অংশটি স্ক্যান করা হয়। এটি আঙুলের ছাপের চেয়েও অনেক বেশি নির্ভুল ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
৩৪. বায়োইনফরম্যাটিক্স বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন তথ্য (যেমন- ডিএনএ বা প্রোটিন) কম্পিউটার প্রযুক্তি ও গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করার নামই বায়োইনফরম্যাটিক্স। এটি জীববিজ্ঞানের গবেষণাকে অনেক সহজ করেছে।
৩৫. বায়োইনফরম্যাটিক্সে কম্পিউটারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জীবের জীবন রহস্য বা জিনোম অনেক বিশাল ডেটা। এই বিশাল ডেটা স্টোর করা, সিকোয়েন্স করা এবং বিশ্লেষণ করার জন্য শক্তিশালী কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার প্রয়োজন, যা বায়োইনফরম্যাটিক্সের মূল কাজ।
৩৬. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কেন করা হয়?
উত্তর: উন্নত জাতের ফসল উৎপাদন, প্রাণীর শারীরিক বৃদ্ধি এবং বংশগত রোগের চিকিৎসার জন্য কোনো জীবের ডিএনএ বা জিনে পরিবর্তন আনাই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্দেশ্য।
৩৭. ডিএনএ রিকম্বিন্যান্ট প্রযুক্তি কী?
উত্তর: একটি জীবের ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশ কেটে অন্য একটি জীবের ডিএনএ-তে স্থাপন করার মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরি করার প্রযুক্তিই হলো ডিএনএ রিকম্বিন্যান্ট প্রযুক্তি।
৩৮. ইনসুলিন তৈরিতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আগে ইনসুলিন পশুর দেহ থেকে সংগ্রহ করা হতো। এখন মানুষের ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করিয়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ ইনসুলিন তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
৩৯. ন্যানোটেকনোলজি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পারমাণবিক বা আণবিক পর্যায়ে পদার্থের পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করে অতি ক্ষুদ্র কোনো যন্ত্র বা উপাদান তৈরির প্রযুক্তিকে ন্যানোটেকনোলজি বলে। (১ ন্যানোমিটার = ১০^-৯ মিটার)।
৪০. ক্ষুদ্র আকারের জিনিস দিয়ে বড় আকারের জিনিস তৈরি করা সম্ভব- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এটি ন্যানোটেকনোলজির 'বটম-আপ' (Bottom-up) পদ্ধতিকে বোঝায়। এখানে ক্ষুদ্র পরমাণু বা অণুকে সাজিয়ে বড় কোনো শক্তিশালী বস্তু বা চিপ তৈরি করা হয়।
৪১. আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ন্যানোটেকনোলজিতে মূলত আণবিক পর্যায় নিয়ে কাজ করা হয়। এই প্রযুক্তিতে পদার্থের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে সাধারণ বস্তুকে অনেক বেশি শক্তিশালী বা হালকা করা যায়।
৪২. কম্পিউটার পাইরেসি কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সফটওয়্যার প্রস্তুতকারীর অনুমতি ছাড়া তার তৈরি করা সফটওয়্যার কপি করা, বিতরণ করা বা ব্যবহার করাকে সফটওয়্যার পাইরেসি বলে। এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
৪৩. হ্যাকিং কেন অনৈতিক কাজ?
উত্তর: অন্যের কম্পিউটার সিস্টেমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে তথ্য চুরি করা, ক্ষতি করা বা ফাইল নষ্ট করাকে হ্যাকিং বলে। এটি অন্যের গোপনীয়তা ভঙ্গ করে এবং আইনি অপরাধ, তাই এটি অনৈতিক।
৪৪. প্লেজারিজম বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অন্যের লেখা প্রবন্ধ, কবিতা, গবেষণা বা সৃজনশীল কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেওয়াকে প্লেজারিজম বলে। এটি জ্ঞানভিত্তিক চুরি হিসেবে গণ্য হয়।
৪৫. স্প্যামিং বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ইন্টারনেটে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় মেইল বা মেসেজ বারবার পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এটি নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ নষ্ট করে এবং ব্যবহারকারীকে বিরক্ত করে।
৪৬. চিকিৎসা ব্যবস্থায় আইসিটির অবদান ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আইসিটির ফলে এখন ঘরে বসে টেলিমেডিসিন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বড় বড় অস্ত্রোপচারে রোবটিক্স এবং ক্রায়োসার্জারি ব্যবহারের ফলে ঝুঁকি অনেক কমেছে। কম্পিউটারের সাহায্যে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় ও ডাটাবেজে রোগীর তথ্য সংরক্ষণ করা সহজ হয়েছে।
৪৭. ক্রায়োসার্জারিতে তরল নাইট্রোজেন কেন ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: তরল নাইট্রোজেন অত্যন্ত শীতল (প্রায় -১৯৬° সেলসিয়াস)। ক্রায়োসার্জারিতে অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে অত্যন্ত দ্রুত বরফ শীতল করে জমিয়ে ফেলার জন্য এই চরম নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, যা তরল নাইট্রোজেন দিয়ে সম্ভব।
৪৮. নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে বায়োমেট্রিক্স কীভাবে সম্পর্কিত?
উত্তর: বায়োমেট্রিক্স মানুষের শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, যা নকল করা অসম্ভব। পাসওয়ার্ড বা চাবি হারিয়ে যেতে পারে বা চুরি হতে পারে, কিন্তু আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি অনন্য। তাই উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক্স সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
৪৯. খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত প্রযুক্তি (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং) ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদের জিনের পরিবর্তন ঘটিয়ে এমন সব ফসল তৈরি করা হয় যা দীর্ঘকাল সতেজ থাকে। এছাড়া রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিগুণ (যেমন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ধান) বাড়ানোর জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
৫০. ক্ষুদ্র আকারের জিনিস দিয়ে বড় আকারের জিনিস তৈরি করার প্রযুক্তি (ন্যানোটেকনোলজি) ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এটি ন্যানোটেকনোলজির 'বটম-আপ' (Bottom-up) পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আণবিক বা পারমাণবিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে শক্তিশালী ও বড় কোনো বস্তু বা সার্কিট তৈরি করা হয়।
৫১. 'টপ টু ডাউন' (Top-to-Down) পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এটি ন্যানোটেকনোলজির একটি পদ্ধতি যেখানে বড় কোনো পদার্থকে কেটে বা খণ্ড বিখণ্ড করে ক্ষুদ্র ন্যানো মাপে নিয়ে আসা হয়। চিপ বা মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বহুল ব্যবহৃত।
৫২. আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত দেশ গঠনে অপরিহার্য- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শিল্প-কারখানায় রোবট ও অটোমেশন ব্যবহারের ফলে উৎপাদনের গতি অনেক বেড়ে যায় এবং পণ্যের মান নিখুঁত হয়। দ্রুত উৎপাদন ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, যা দেশ গঠনে সহায়ক।
৫৩. বায়োইনফরম্যাটিক্সে ব্যবহৃত ডেটা কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বায়োইনফরম্যাটিক্সে মূলত ডিএনএ (DNA), আরএনএ (RNA) এবং প্রোটিনের সিকোয়েন্স সংক্রান্ত বিশাল ডেটা নিয়ে কাজ করা হয়। এই ডিজিটাল ডেটাগুলো কম্পিউটার ও বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে জীববিজ্ঞানের গবেষণা করা হয়।
৫৪. আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। এখানে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার স্কেলে পদার্থের অণু-পরমাণু নিয়ে গবেষণা করা হয়, যার মাধ্যমে ওজনে হালকা কিন্তু স্টিলের চেয়েও কয়েক গুণ শক্তিশালী বস্তু তৈরি করা সম্ভব।
৫৫. পাটের জীবন রহস্য উন্মেচিত হয়েছে কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে?
উত্তর: পাটের জীবন রহস্য বা জিনোম সিকোয়েন্স উন্মেচিত হয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োইনফরম্যাটিক্স-এর সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে। এর ফলে পাটের উন্নত ও রোগ-প্রতিরোধী জাত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
৫৬. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: মূলত উন্নত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মানুষের বংশগত রোগ নিরাময়, বিশুদ্ধ ইনসুলিন উৎপাদন এবং দ্রুত বর্ধনশীল মাছ বা শস্য উৎপাদনের জন্য এটি অপরিহার্য।
৫৭. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে মানুষকে সহায়তা দিচ্ছে?
উত্তর: এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন, বিভিন্ন ভ্যাকসিন এবং প্রাণ রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া পুষ্টিকর ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এটি মানুষের জীবন রক্ষা করছে।
৫৮. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে তৈরি করা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী (যেমন- ন্যানো চিপ) আকারে অত্যন্ত ছোট হয় এবং এগুলো পরিচালনায় খুব কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। ফলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
৫৯. তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা মেনে চলাই হলো নৈতিকতা। অন্যের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা, কারো ক্ষতি না করা এবং পাইরেসি বা হ্যাকিং থেকে দূরে থাকা আইসিটি নৈতিকতার অংশ।
৬০. হ্যাকিং নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হ্যাকিং মানে হলো অন্যের অনুমতি ছাড়া তার কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা। এটি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করে এবং অনেক সময় ডিজিটাল সম্পদ চুরি বা ক্ষতি করে, যা নৈতিকতা ও আইনের পরিপন্থী।
৬১. হ্যাকিংয়ের সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হ্যাকিং যদি অসৎ উদ্দেশ্যে বা অন্যের ক্ষতি করার জন্য হয়, তবে তা অনৈতিক। তবে নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য যখন নৈতিক হ্যাকাররা কাজ করে, তখন তাকে 'এথিক্যাল হ্যাকিং' বলা হয়। অর্থাৎ ব্যবহারের উদ্দেশ্যই হ্যাকিংয়ের নৈতিকতা নির্ধারণ করে।
৬২. প্লেজারিজম অনৈতিক কাজ- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অন্যের সৃষ্টিশীল কাজ (লেখা, গবেষণা বা কোড) নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া হলো প্লেজারিজম। এটি এক ধরনের ডিজিটাল চুরি এবং মূল লেখকের মেধার অবমূল্যায়ন, তাই এটি সম্পূর্ণ অনৈতিক।
৬৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমাজজীবনে প্রভাব কেমন?
উত্তর: এর প্রভাব দ্বিমুখী। ইতিবাচকভাবে এটি যোগাযোগ সহজ করেছে এবং জীবনযাত্রার মান বাড়িয়েছে। নেতিবাচকভাবে এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করা, সাইবার অপরাধ বাড়ানো এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরির মতো সমস্যা সৃষ্টি করছে।
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!
Comments
Post a Comment