২য় অধ্যায়ের সকল জ্ঞানমূলক এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর ।। Raihans Academy

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: জ্ঞানমূলক প্রশ্ন সম্ভার

অধ্যায় ২: ডেটা কমিউনিকেশন ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং

১. জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১. ব্যান্ডউইথ কী?
উত্তর: প্রতি সেকেন্ডে ডেটা স্থানান্তরের হার বা ক্ষমতাকে ব্যান্ডউইথ বলে। এটি bps এককে পরিমাপ করা হয়।
২. ডেটা কমিউনিকেশন কী?
উত্তর: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডেটা বা তথ্যের আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াই হলো ডেটা কমিউনিকেশন।
৩. মাল্টিকাস্ট ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা একটি সোর্স থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়।
৪. লোকাল কমিউনিকেশন কী?
উত্তর: যখন যোগাযোগ খুব কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে (যেমন- কথাবার্তা, ইশারা-ইঙ্গিত) হয়, তখন তাকে লোকাল কমিউনিকেশন বলে।
৫. Bps কী?
উত্তর: Bps (Bit per second) হলো ব্যান্ডউইথ বা ডেটা ট্রান্সমিশনের গতি পরিমাপের একক।
৬. রিমোট কমিউনিকেশন কী?
উত্তর: যখন যোগাযোগ অনেক দূরবর্তী স্থানের মধ্যে হয়, তখন তাকে রিমোট কমিউনিকেশন বলে।
৭. ন্যারো ব্যান্ড কী?
উত্তর: যে ব্যান্ডের গতি সাধারণত ৪৫ থেকে ৩০০ bps এর মধ্যে থাকে তাকে ন্যারো ব্যান্ড বলে।
৮. ভয়েস ব্যান্ড কী?
উত্তর: যে ব্যান্ডের গতি সাধারণত ১২০০ থেকে ৯৬০০ bps এর মধ্যে থাকে তাকে ভয়েস ব্যান্ড বলে।
৯. ব্রড ব্যান্ড কী?
উত্তর: যে ব্যান্ডের গতি সাধারণত ১ Mbps বা তার চেয়ে বেশি হয় তাকে ব্রড ব্যান্ড বলে।
১০. সিগনাল কী?
উত্তর: সিগনাল হলো ডেটা বা তথ্যের একটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বা অপটিক্যাল রূপ যা মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
১১. ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরিত হয়, তাকে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বলে।
১২. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা ব্লক আকারে এবং প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে ক্লক সিগন্যাল ব্যবহার করে পাঠানো হয়।
১৩. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার এবং স্টার্ট-স্টপ বিট ব্যবহার করে পাঠানো হয়।
১৪. সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে ডেটা এক লাইন দিয়ে একটি একটি করে বিট আকারে পর্যায়ক্রমে প্রেরিত হয়।
১৫. প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে অনেকগুলো লাইন দিয়ে একসাথে একাধিক বিট প্রেরিত হয়।
১৬. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা বা তথ্যের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান সবসময় সমান থাকে (রিয়েল টাইম)।
১৭. ডেটা প্যাকেট কী?
উত্তর: ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় ডেটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়, যার প্রতিটি অংশকে প্যাকেট বলে।
১৮. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড কী?
উত্তর: যে মোডে ডেটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু একসাথে নয় (যেমন- ওয়াকিটকি)।
১৯. ফুল-ডুপ্লেক্স মোড কী?
উত্তর: যে মোডে ডেটা একই সাথে উভয় দিকেই আদান-প্রদান করা সম্ভব (যেমন- মোবাইল ফোন)।
২০. ডেটা ট্রান্সমিশন মোড কী?
উত্তর: ডেটা প্রবাহের দিককে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড বলে।
২১. মাল্টিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশন মোড কী?
উত্তর: যখন একটি সোর্স থেকে ডেটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়।
২২. সিমপ্লেক্স মোড কী?
উত্তর: যে মোডে ডেটা শুধুমাত্র একমুখী প্রবাহিত হয় (যেমন- রেডিও, টিভি)।
২৩. ইউনিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: একটি সোর্স থেকে একটিমাত্র প্রাপকের কাছে ডেটা পাঠানো।
২৪. অ্যানিকাস্ট কী?
উত্তর: এমন একটি ট্রান্সমিশন যেখানে ডেটা প্রাপক দলের যেকোনো একজনের কাছে পাঠানো হয়।
২৫. জিওকাস্ট কী?
উত্তর: ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট এলাকার প্রাপকের কাছে ডেটা পাঠানো।
২৬. ব্রডকাস্ট কী?
উত্তর: যখন একটি সোর্স থেকে নেটওয়ার্কের সকল ডিভাইসের কাছে ডেটা পাঠানো হয়।
২৭. ডেটা চলাচলের মাধ্যম কী?
উত্তর: যে ভৌত বা তারবিহীন পথের মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছায়।
২৮. এটিনিউয়েশন কী?
উত্তর: দীর্ঘ পথ অতিক্রমের সময় সিগন্যালের শক্তি কমে যাওয়াকে এটিনিউয়েশন বলে।
২৯. ক্রসটক কী?
উত্তর: একটি তারের সিগন্যাল অন্য তারে হস্তক্ষেপ করার ঘটনা।
৩০. অপটিক্যাল ফাইবার কী?
উত্তর: কাঁচ বা প্লাস্টিক তন্তু দিয়ে তৈরি মাধ্যম যা আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে ডেটা পাঠায়।
৩১. EMI এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Electro-Magnetic Interference।
৩২. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের জন্য কী কানেক্টর ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: ST, SC, বা LC কানেক্টর।
৩৩. কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের জন্য কী কানেক্টর ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: BNC কানেক্টর।
৩৪. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের জন্য কী কানেক্টর ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: RJ-45 কানেক্টর।
৩৫. অপটিক্যাল ফাইবারের উপাদানসমূহ কী?
উত্তর: কোর (Core) এবং ক্ল্যাডিং (Cladding)।
৩৬. কোর ও ক্ল্যাডিং কী?
উত্তর: কোর হলো অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতরের কাঁচের অংশ আর ক্ল্যাডিং হলো কোরের বাইরের আবরণের অংশ।
৩৭. ব্লুটুথ কী?
উত্তর: স্বল্প দূরত্বের তারবিহীন ডেটা আদান-প্রদানের একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রযুক্তি (IEEE 802.15)।
৩৮. ইনফ্রারেড কী?
উত্তর: আলোর গতির সমতুল্য তারবিহীন যোগাযোগের মাধ্যম (যেমন- রিমোট কন্ট্রোল)।
৩৯. ওয়াইম্যাক্স কী?
উত্তর: তারবিহীন ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি (IEEE 802.16) যা বিশাল এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ দেয়।
৪০. হটস্পট কী?
উত্তর: নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদানকারী ভৌগোলিক এলাকা বা স্থান।
৪১. বেতার তরঙ্গ কী?
উত্তর: বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ যা তার ছাড়াই ডেটা প্রেরণে ব্যবহৃত হয়।
৪২. ওয়াই-ফাই কী?
উত্তর: IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের একটি ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি।
৪৩. পিকোনেট কী?
উত্তর: ব্লুটুথ ডিভাইসের সমন্বয়ে গঠিত ছোট একটি নেটওয়ার্ক।
৪৪. স্কাটারনেট কী?
উত্তর: একাধিক পিকোনেট মিলে গঠিত নেটওয়ার্ক।
৪৫. WPAN কী?
উত্তর: Wireless Personal Area Network।
৪৬. জিগবি (ZigBee) কী?
উত্তর: কম শক্তির ও কম দূরত্বের তারবিহীন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি।
৪৭. NFC কী?
উত্তর: Near Field Communication (খুব কাছাকাছি ডিভাইসের যোগাযোগের প্রযুক্তি)।
৪৮. রোমিং কী?
উত্তর: এক সেল বা নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা অবস্থায় অন্য সেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে ব্যবহার করার সুবিধা।
৪৯. সেল কী?
উত্তর: মোবাইল নেটওয়ার্কের ভৌগোলিক এলাকা যাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেলে ভাগ করা হয়।
৫০. সেলুলার কী?
উত্তর: মোবাইল ফোন প্রযুক্তি যা কোষ বা সেলের ভিত্তিতে কাজ করে।
৫১. মোবাইল ফোন কী?
উত্তর: তারবিহীন বহনযোগ্য টেলিযোগাযোগ যন্ত্র।
৫২. মোবাইল ফোনের জনক কে?
উত্তর: মার্টিন কুপার।
৫৩. GSM কী?
উত্তর: Global System for Mobile Communication (মোবাইল যোগাযোগের স্ট্যান্ডার্ড)।
৫৪. CDMA কী?
উত্তর: Code Division Multiple Access (মোবাইল যোগাযোগের একটি প্রযুক্তি)।
৫৫. সার্কিট সুইচিং কী?
উত্তর: যেখানে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে স্থায়ী পথ তৈরি করে ডেটা পাঠানো হয়।
৫৬. হ্যান্ড অফ কী?
উত্তর: মোবাইল ব্যবহারকারী এক সেল থেকে অন্য সেলে যাওয়ার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া।
৫৭. প্যাকেট সুইচিং কী?
উত্তর: যেখানে ডেটাকে প্যাকেটে ভাগ করে বিভিন্ন পথে প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়।
৫৮. ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: যেখানে একটি শক্তিশালী সার্ভার থেকে অন্য কম্পিউটারগুলো সেবা গ্রহণ করে।
৫৯. WAN কী?
উত্তর: Wide Area Network (দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক)।
৬০. MAN কী?
উত্তর: Metropolitan Area Network (শহরজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক)।
৬১. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: যেখানে সব কম্পিউটার সমান ক্ষমতার এবং একে অপরের সাথে যুক্ত।
৬২. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে যোগাযোগের জন্য একে অপরের সাথে যুক্ত করার পদ্ধতি।
৬৩. সেন্ট্রালইজড নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: যেখানে সব কাজ একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
৬৪. PAN কী?
উত্তর: Personal Area Network (ব্যক্তিগত ব্যবহারের নেটওয়ার্ক)।
৬৫. LAN কী?
উত্তর: Local Area Network (একটি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেটওয়ার্ক)।
৬৬. মডুলেশন কী?
উত্তর: ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া।
৬৭. ডিমডুলেশন কী?
উত্তর: অ্যানালগ সিগন্যালকে পুনরায় ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া।
৬৮. মডেম কী?
উত্তর: যে ডিভাইস মডুলেশন ও ডিমডুলেশন উভয় কাজ করতে পারে।
৬৯. গেটওয়ে কী?
উত্তর: ভিন্ন প্রোটোকলভুক্ত নেটওয়ার্ক যুক্ত করার ডিভাইস।
৭০. সুইচ কী?
উত্তর: একাধিক ডিভাইসের মধ্যে ডেটা ফিল্টারিং করে আদান-প্রদান করা ডিভাইস।
৭১. রাউটার কী?
উত্তর: একই প্রোটোকলের নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা পাঠানোর সেরা পথ বা রুট খুঁজে দেয়।
৭২. ব্রিজ কী?
উত্তর: একই প্রোটোকলের দুটি ল্যান (LAN) নেটওয়ার্ক যুক্ত করার ডিভাইস।
৭৩. NIC কী?
উত্তর: Network Interface Card (কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার কার্ড)।
৭৪. রিপিটার কী?
উত্তর: দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী বা রিজেনারেট করে সামনে পাঠানোর ডিভাইস।
৭৫. হাব কী?
উত্তর: একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস যা সব কম্পিউটারে ডেটা ছড়িয়ে দেয় (ব্রডকাস্ট করে)।
৭৬. নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?
উত্তর: নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো যে জ্যামিতিক নকশায় একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
৭৭. বাস টপোলজি কী?
উত্তর: একটি মেইন ক্যাবল বা ব্যাকবোনের সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকার পদ্ধতি।
৭৮. রিং টপোলজি কী?
উত্তর: প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে বৃত্তাকার আকার তৈরি করা।
৭৯. টার্মিনেটর কী?
উত্তর: বাস টপোলজির মেইন ক্যাবলের দুই প্রান্তে ডেটা সিগন্যাল থামানোর জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস।
৮০. রিং টপোলজি কী?
উত্তর: প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে বৃত্তাকার আকার তৈরি করা।
৮১. স্টার টপোলজি কী?
উত্তর: একটি কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচের সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকার পদ্ধতি।
৮২. মেশ টপোলজি কী?
উত্তর: প্রতিটি কম্পিউটার অন্য সব কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকা।
৮৩. ট্রি নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: হায়ারার্কিকাল বা গাছের শাখা-প্রশাখার মতো বিন্যস্ত টপোলজি।
৮৪. ক্লাউড কম্পিউটিং কী?
উত্তর: ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাড়ায় কম্পিউটিং সেবা (স্টোরেজ, সফটওয়্যার) ব্যবহার করার পদ্ধতি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

অধ্যায় ২: ডেটা কমিউনিকেশন ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং

২. অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (১-২৫)

১. ব্যান্ডউইথ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ব্যান্ডউইথ হলো ডেটা ট্রান্সমিশনের গতি বা ডেটা পরিবহনের ক্ষমতা। একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নেটওয়ার্ক চ্যানেলের ভেতর দিয়ে কত দ্রুত ডেটা প্রবাহিত হতে পারে তা ব্যান্ডউইথ দ্বারা নির্ধারিত হয়। এটি সাধারণত bps (bit per second) এককে প্রকাশ করা হয়।

২. ডেটা কমিউনিকেশনে সিগনালের গুরুত্ব কী?

উত্তর: ডেটা কমিউনিকেশনে সিগনাল হলো তথ্যের ভৌত রূপ। উৎস থেকে গন্তব্যে ডেটা পাঠানোর জন্য ডিজিটাল বা অ্যানালগ সংকেতের প্রয়োজন হয়। সিগনাল ছাড়া কোনো মাধ্যম দিয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা অসম্ভব।

৩. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন দ্রুততর কেন?

উত্তর: সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ব্লক আকারে পাঠানো হয় এবং প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে ঘড়ির পালস বা ক্লক সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়। এতে স্টার্ট-স্টপ বিট প্রয়োজন হয় না, ফলে ডেটা স্থানান্তরের হার অনেক বেশি হয়।

৪. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে স্টার্ট ও স্টপ বিট কেন ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: এই পদ্ধতিতে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার প্রেরিত হয়। প্রেরক কখন ডেটা পাঠানো শুরু করবে এবং কখন শেষ করবে তা বোঝানোর জন্য স্টার্ট ও স্টপ বিট ব্যবহৃত হয়, যাতে প্রাপক সঠিকভাবে ডেটা গ্রহণ করতে পারে।

৫. সিরিয়াল ও প্যারালাল ট্রান্সমিশনের প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: সিরিয়াল ট্রান্সমিশনে বিটগুলো একটি নির্দিষ্ট লাইন দিয়ে একের পর এক প্রেরিত হয়, তাই এটি কম ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, প্যারালাল ট্রান্সমিশনে একাধিক লাইন দিয়ে একসাথে অনেকগুলো বিট পাঠানো হয়, ফলে এটি অনেক দ্রুত কিন্তু ব্যয়বহুল।

৬. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশনকে কেন রিয়েল-টাইম ট্রান্সমিশন বলা হয়?

উত্তর: আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশনে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান সবসময় সমান থাকে। তাই ভিডিও কনফারেন্সিং বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মতো ক্ষেত্রে যেখানে কোনো ল্যাগ (lag) সহ্য করা যায় না, সেখানে এটি ব্যবহৃত হয়।

৭. ডেটা প্যাকেট কেন ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় বড় মেসেজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়, যাকে প্যাকেট বলে। প্যাকেট ব্যবহারের ফলে নেটওয়ার্কের ট্রাফিক কম হয় এবং কোনো প্যাকেট নষ্ট হলে পুনরায় পাঠানো সহজ হয়।

৮. হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্সের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে ডেটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু একসাথে নয় (যেমন- ওয়াকিটকি)। অন্যদিকে, ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে ডেটা একই সময়ে উভয় দিকেই আদান-প্রদান করা সম্ভব (যেমন- মোবাইল ফোন)।

৯. রেডিও ও টিভি সম্প্রচার কোন মোডের উদাহরণ?

উত্তর: রেডিও ও টিভি সম্প্রচার হলো ব্রডকাস্ট মোডের উদাহরণ। কারণ এখানে একটি মাত্র সোর্স থেকে অগণিত প্রাপকের কাছে একই তথ্য একসাথে পাঠানো হয়।

১০. ইউনিকাস্ট ও ব্রডকাস্টের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ইউনিকাস্টে ডেটা একটি সোর্স থেকে শুধুমাত্র একটি সুনির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়। আর ব্রডকাস্টে একটি সোর্স থেকে নেটওয়ার্কের সকল ডিভাইসের কাছে তথ্য পাঠানো হয়।

১১. এটিনিউয়েশন সিগনালকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

উত্তর: দীর্ঘ পথ অতিক্রমের সময় সিগনালের শক্তি ক্রমশ কমতে থাকে, যাকে এটিনিউয়েশন বলে। এর ফলে প্রাপক ডেটা সঠিকভাবে বুঝতে পারে না বা ডেটা লস হতে পারে।

১২. ক্রসটক কেন হয় এবং এর প্রতিকার কী?

উত্তর: পাশাপাশি থাকা দুটি তারের একটির সিগনাল অন্যটিতে হস্তক্ষেপ করলে ক্রসটক হয়। এর প্রতিকার হলো তারগুলোকে ভালোভাবে শিল্ড (Shield) করা বা টুইস্টেড পেয়ারে পেঁচানো।

১৩. অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধাগুলো কী কী?

উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবার দ্রুত ডেটা স্থানান্তর করতে পারে, এতে কোনো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স (EMI) হয় না এবং দীর্ঘ দূরত্বে সিগনাল লস খুবই কম হয়।

১৪. কেন অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে?

উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবারের কোর এবং ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরাঙ্ক ভিন্ন হওয়ায় আলো যখন একটি নির্দিষ্ট কোণে আপতিত হয়, তখন তা বাইরে না গিয়ে কোরের ভেতর দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে এগিয়ে যায়।

১৫. EMI মুক্ত মাধ্যম হিসেবে অপটিক্যাল ফাইবার কেন সেরা?

উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবার কাঁচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি, যা বিদ্যুৎ কুপরিবাহী। ফলে বাহ্যিক কোনো তড়িৎ বা চৌম্বকীয় তরঙ্গ এতে সিগনাল হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

১৬. ব্লুটুথকে কেন প্যান (PAN) বলা হয়?

উত্তর: ব্লুটুথ প্রযুক্তি সাধারণত ১০-১০০ মিটারের মধ্যে সীমিত ব্যক্তিগত গ্যাজেটগুলোর (মোবাইল, হেডফোন) মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। এই ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত পরিসরের নেটওয়ার্ক বলেই একে প্যান বলা হয়।

১৭. ইনফ্রারেড প্রযুক্তি স্বল্প দূরত্বের জন্য কেন উপযোগী?

উত্তর: ইনফ্রারেড সিগনাল দেওয়াল বা কোনো বাধা ভেদ করতে পারে না। তাই এটি টিভি রিমোটের মতো স্বল্প দূরত্বের ডিভাইসের জন্য নিরাপদ ও কার্যকরী।

১৮. ওয়াইম্যাক্স (Wi-MAX) কেন দীর্ঘ দূরত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: এটি একটি উন্নত তারবিহীন ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি যা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করতে সক্ষম, তাই এটি বড় শহর বা গ্রামের নেটওয়ার্ক বিস্তারে কার্যকর।

১৯. হটস্পট ও ওয়াই-ফাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: হটস্পট হলো এমন একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা, যেখানে ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, ওয়াই-ফাই হলো প্রযুক্তি এবং হটস্পট হলো তার সুবিধা গ্রহণের স্থান।

২০. তারবিহীন মাধ্যম ব্যবহারের সুবিধাগুলো কী কী?

উত্তর: তারবিহীন মাধ্যমের প্রধান সুবিধা হলো গতিশীলতা (Mobility), অর্থাৎ যেকোনো স্থান থেকে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া যায় এবং বারবার তার বিছানোর ঝামেলা নেই।

২১. পিকোনেট ও স্কাটারনেটের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ব্লুটুথের মাধ্যমে গঠিত একক ছোট নেটওয়ার্ক হলো পিকোনেট। আর একাধিক পিকোনেট মিলে যখন একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে, তখন তাকে স্কাটারনেট বলে।

২২. রোমিং কীভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ করে?

উত্তর: মোবাইল ব্যবহারকারী এক সেল (Cell) থেকে অন্য সেলে যাওয়ার সময় নেটওয়ার্কের সিগনাল হ্যান্ড-অফ বা স্থানান্তরের মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না রেখে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানই হলো রোমিং।

২৩. সেলুলার মোবাইল প্রযুক্তির সুবিধা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এই প্রযুক্তিতে ভৌগোলিক এলাকাকে ছোট ছোট সেলে ভাগ করা হয়। ফলে একই ফ্রিকোয়েন্সি একাধিকবার ব্যবহার করা যায় এবং অনেক বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

২৪. জিএসএম (GSM) ও সিডিএমএ (CDMA) প্রযুক্তির মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: GSM প্রযুক্তিতে ফ্রিকোয়েন্সি ডিভিশন এবং টাইম ডিভিশন মাল্টিপল এক্সেস ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, CDMA প্রযুক্তিতে প্রতিটি কলের জন্য নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে ডেটা পাঠানো হয়।

২৫. সার্কিট সুইচিং ও প্যাকেট সুইচিংয়ের পার্থক্য কী?

উত্তর: সার্কিট সুইচিংয়ে যোগাযোগের শুরুতে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে স্থায়ী পথ তৈরি হয়। প্যাকেট সুইচিংয়ে ডেটাকে ছোট প্যাকেটে ভাগ করে বিভিন্ন পথে প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়।

২৬. ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কের সুবিধা কী?

উত্তর: এই নেটওয়ার্কে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কম্পিউটার (সার্ভার) সব তথ্য সংরক্ষণ করে। এর ফলে তথ্যের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়, ব্যাকআপ নেওয়া সহজ হয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নেটওয়ার্কের সকল রিসোর্স নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২৭. ল্যান (LAN) ও ওয়ান (WAN) এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ল্যান সাধারণত একটি ছোট ভৌগোলিক এলাকা যেমন বাসা বা অফিসে সীমাবদ্ধ থাকে এবং এর ডেটা ট্রান্সমিশন গতি বেশি। অন্যদিকে, ওয়ান বিশাল এলাকা বা দেশজুড়ে বিস্তৃত থাকে এবং এর গতি তুলনামূলক কম।

২৮. কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার (যেমন- প্রিন্টার) এবং ডেটা বা তথ্য একে অপরের সাথে শেয়ার করা যায়। এটি দ্রুত যোগাযোগ এবং রিসোর্স ব্যবহারের খরচ কমাতে সাহায্য করে।

২৯. মডেমকে কেন সিগনাল কনভার্টার বলা হয়?

উত্তর: মডেম ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগে (মডুলেশন) এবং এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে (ডিমডুলেশন) রূপান্তর করে। এই দ্বিমুখী রূপান্তরের কাজ করে বলেই একে সিগনাল কনভার্টার বলা হয়।

৩০. গেটওয়ে ও রাউটারের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: রাউটার একই প্রোটোকলের নেটওয়ার্কগুলোকে যুক্ত করে ডেটা চলাচলের পথ দেখায়। আর গেটওয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রোটোকল বা আর্কিটেকচারের নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

৩১. সুইচ ও হাবের মধ্যে কোনটি বেশি বুদ্ধিমান এবং কেন?

উত্তর: সুইচ হাবের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। কারণ হাব ডেটা সব পোর্টে ব্রডকাস্ট করে দেয়, কিন্তু সুইচ ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) ব্যবহার করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছেই ডেটা পাঠায়।

৩২. রিপিটার কখন ব্যবহার করা জরুরি?

উত্তর: যখন ডেটা অনেক দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে, তখন সিগন্যাল দুর্বল বা বিকৃত হয়ে যায়। এই দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী বা রিজেনারেট করে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য রিপিটার ব্যবহার করা জরুরি।

৩৩. এনআইসি (NIC) কার্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এনআইসি কার্ড হলো কম্পিউটারের সাথে নেটওয়ার্ক মিডিয়ার সংযোগস্থল। এই কার্ড ছাড়া কোনো কম্পিউটার বা ডিভাইস নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে না এবং ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে না।

৩৪. নেটওয়ার্ক টপোলজির গুরুত্ব কী?

উত্তর: টপোলজি নির্ধারণ করে নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো কীভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকবে। সঠিক টপোলজি নির্বাচনের ওপর নেটওয়ার্কের গতি, ব্যয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের সহজসাধ্যতা নির্ভর করে।

৩৫. বাস টপোলজিতে ব্যাকবোনের গুরুত্ব কী?

উত্তর: বাস টপোলজিতে সব কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় প্রধান তার বা ব্যাকবোনের সাথে যুক্ত থাকে। এই ব্যাকবোন নষ্ট হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়, কারণ তথ্য আদান-প্রদান করার কোনো মাধ্যম থাকে না।

৩৬. রিং টপোলজির অসুবিধা কী?

উত্তর: রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার বৃত্তাকার পথে যুক্ত থাকে। এর বড় অসুবিধা হলো—যদি নেটওয়ার্কের একটি মাত্র কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে পড়ে।

৩৭. স্টার টপোলজিতে সেন্ট্রাল হাবের ভূমিকা কী?

উত্তর: স্টার টপোলজিতে সেন্ট্রাল হাব বা সুইচ একটি ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মতো কাজ করে। সব ডেটা প্রথমে হাবে আসে এবং হাব তা প্রাপকের কাছে পাঠায়। কেন্দ্রীয় এই ডিভাইসের কারণেই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

৩৮. মেশ টপোলজিকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক বলা হয় কেন?

উত্তর: মেশ টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার অন্য সব কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। কোনো একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও ডেটা আদান-প্রদানের বিকল্প অনেক পথ খোলা থাকে, তাই এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।

৩৯. ট্রি টপোলজি কোথায় বেশি উপযোগী?

উত্তর: বড় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অফিস যেখানে বিভিন্ন স্তরে বা বিভাগীয় কাঠামো অনুযায়ী নেটওয়ার্ক সাজাতে হয়, সেখানে ট্রি টপোলজি সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

৪০. হাইব্রিড টপোলজির প্রধান সুবিধা কী?

উত্তর: হাইব্রিড টপোলজিতে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন টপোলজি একত্রে যুক্ত করা যায়। এর ফলে প্রয়োজনে নেটওয়ার্কের আকার বড় করা সহজ হয় এবং একাধিক টপোলজির সুবিধা একসাথে পাওয়া যায়।

৪১. ক্লাউড কম্পিউটিং কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?

উত্তর: নিজের হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার না কিনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বল্প খরচে বিশাল স্টোরেজ ও কম্পিউটিং পাওয়ার ব্যবহার করা যায় বলে ক্লাউড কম্পিউটিং দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।

৪২. Saas (Software as a Service) কী?

উত্তর: এটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের একটি মডেল যেখানে ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো সফটওয়্যার (যেমন- গুগল ডকস) ব্যবহার করতে পারে, যা নিজের কম্পিউটারে ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না।

৪৩. ফাইবার অপটিক ক্যাবল কেন বাঁকানো ঝুঁকিপূর্ণ?

উত্তর: এই ক্যাবলের ভেতর দিয়ে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ডেটা যায়। বেশি বাঁকালে কাঁচের তন্তু ভেঙে যেতে পারে অথবা আলোর প্রতিফলন ব্যাহত হয়ে সিগন্যাল লস হতে পারে।

৪৪. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ কীভাবে কাজ করে?

উত্তর: পৃথিবী থেকে সিগন্যাল মহাশূন্যে থাকা স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়। স্যাটেলাইট সেই সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই বা শক্তিশালী করে পুনরায় পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পাঠিয়ে দেয়।

৪৫. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ও ব্লুটুথের মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সিগত পার্থক্য কী?

উত্তর: ব্লুটুথ সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে এবং স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়। ওয়াই-ফাই ২.৪ গিগাহার্টজ ছাড়াও ৫ গিগাহার্টজে কাজ করতে পারে এবং এর পরিসর ও গতি অনেক বেশি।

৪৬. মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: মোবাইল ফোন একটি পোর্টেবল ডিভাইস যা সিগন্যাল রিসিভ ও ট্রান্সমিট করার জন্য সার্বক্ষণিক শক্তি ব্যয় করে। ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ ডিভাইসটিকে দীর্ঘ সময় সচল রাখতে সাহায্য করে।

৪৭. ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড কেন নির্বাচন করতে হয়?

উত্তর: তথ্যের ধরন, দূরত্ব এবং গতির প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে মেথড নির্বাচন করতে হয়। যেমন- ভিডিও কলের জন্য দ্রুত গতির আইসোক্রোনাস মেথড এবং ইমেইলের জন্য সিনক্রোনাস মেথড সেরা।

৪৮. ফুল ডুপ্লেক্স মোড কেন বেশি কার্যকর?

উত্তর: এই মোডে প্রেরক ও প্রাপক একই সময়ে কথা বলতে বা ডেটা পাঠাতে পারে। এতে সময় বাঁচে এবং তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক পাওয়া যায়, যা বর্তমান যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য।

৪৯. ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: ব্রডব্যান্ডের গতি সাধারণত ১ এমবিপিএস এর বেশি হয় এবং এটি সবসময় কানেক্টেড থাকে। উচ্চগতির কারণে এটি বড় ফাইল ডাউনলোড এবং ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য উপযুক্ত।

৫০. ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) কী?

উত্তর: দৈনন্দিন ব্যবহারের বৈদ্যুতিক ডিভাইসগুলোকে (যেমন- ফ্রিজ, এসি) ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত করে একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করাই হলো IoT।

৫১. মোবাইল ফোনে হ্যান্ড-অফ কেন জরুরি?

উত্তর: মোবাইল ব্যবহারকারী যখন এক সেল থেকে অন্য সেলে চলাচল করেন, তখন সিগনাল অবিচ্ছিন্ন রাখার জন্য হ্যান্ড-অফ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক সেলের ফ্রিকোয়েন্সি থেকে অন্য সেলে সংযোগ স্থানান্তর করে, যাতে কল ড্রপ না হয়।

৫২. ব্লুটুথ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি কী?

উত্তর: ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো উন্মুক্ত থাকলে হ্যাকাররা অননুমোদিতভাবে ডিভাইসে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে (যেমন- ব্লু-জ্যাকিং), তাই নিরাপত্তার জন্য ডিভাইস পেয়ারিং করার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৫৩. ওয়াইম্যাক্স (Wi-MAX) ও ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: ওয়াই-ফাই ছোট পরিসরে (বাসা/অফিস) দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা দেয়, কিন্তু ওয়াইম্যাক্স অনেক বড় এলাকা (শহর/দেশ) জুড়ে বিস্তৃত ও দীর্ঘ দূরত্বের তারবিহীন সেবা প্রদানে সক্ষম।

৫৪. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল কেন পেঁচানো থাকে?

উত্তর: তারের জোড়াগুলোকে একে অপরের ওপর পেঁচিয়ে রাখলে বাহ্যিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স (EMI) এবং ক্রসটক অনেক কমে যায়, ফলে ডেটা ট্রান্সমিশনে সিগনাল ক্লিয়ার থাকে।

৫৫. কো-এক্সিয়াল ক্যাবল কেন ক্যাবল টিভিতে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কো-এক্সিয়াল ক্যাবলের শিল্ডিং ব্যবস্থা খুব ভালো হওয়ায় এটি বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই উচ্চগতির রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সিগনাল দীর্ঘ দূরত্বে পাঠাতে পারে, যা টিভি সম্প্রচারের জন্য আদর্শ।

৫৬. নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক ডেটা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা হ্যাকার বা অননুমোদিত ব্যবহারকারীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা অপরিহার্য।

৫৭. ডেটা কমিউনিকেশনের গতি কিসের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: ডেটা কমিউনিকেশনের গতি মাধ্যমের ব্যান্ডউইথ, সিগনালের ধরন (ডিজিটাল/অ্যানালগ), দূরত্ব, এবং নেটওয়ার্কে থাকা ডিভাইসের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

৫৮. এনালগ সিগনাল কেন ডিজিটাল সিগনালের চেয়ে ধীর?

উত্তর: এনালগ সিগনাল নিরবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ হিসেবে চলে, যা নয়েজ বা ইন্টারফারেন্সের শিকার বেশি হয়। ডিজিটাল সিগনাল ০ ও ১ হিসেবে চলে, যা দ্রুত প্রসেসিং ও উন্নত ভুলের সংশোধন (Error Correction) করতে সক্ষম।

৫৯. এনএফসি (NFC) কেন লেনদেনের জন্য জনপ্রিয়?

উত্তর: এনএফসি অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে (৪ সেমি) কাজ করে, যা লেনদেন বা তথ্যের নিরাপত্তার জন্য খুবই কার্যকর। স্মার্টফোন স্পর্শ করলেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যায় বলে এটি জনপ্রিয়।

৬০. রাউটার কীভাবে ডেটা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: রাউটার রাউটিং টেবিল ব্যবহার করে প্রতিটি প্যাকেটের গন্তব্য যাচাই করে এবং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পথের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বা উপযুক্ত পথটি নির্বাচন করে ডেটা পাঠায়।

৬১. কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক কার্ড কেন প্রয়োজন?

উত্তর: কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করতে এনআইসি (NIC) কার্ড একটি ভৌত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা সিগনালকে নেটওয়ার্কের উপযোগী করে তোলে।

৬২. ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়?

উত্তর: ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনক্রিপশন (যেমন- WPA3), পাসওয়ার্ড বা পাসফ্রেজ এবং ম্যাক ফিল্টারিং (MAC Filtering) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

৬৩. সার্ভার কী ধরনের কাজ করে?

উত্তর: সার্ভার নেটওয়ার্কের সকল ক্লায়েন্ট বা কম্পিউটারকে সেবা প্রদান করে। যেমন- ফাইল শেয়ারিং, প্রিন্টিং সেবা, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ।

৬৪. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা কী?

উত্তর: এই নেটওয়ার্কে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার নেই, তাই নেটওয়ার্কের আকার বড় হলে এটি পরিচালনা করা কঠিন এবং তথ্যের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব নয়।

৬৫. প্রোটোকল বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: প্রোটোকল হলো নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করার নিয়ম বা শর্তাবলী। এর মাধ্যমেই বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ সম্ভব হয়।

৬৬. টার্মিনেটর কেন বাস টপোলজিতে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: বাস টপোলজির তারের শেষে সিগনাল পৌঁছালে তা যেন আবার প্রতিফলিত হয়ে ফিরে না আসে (যা ডেটাকে বিকৃত করতে পারে), সেজন্য সিগনাল শোষণের কাজে টার্মিনেটর ব্যবহার করা হয়।

৬৭. মাইক্রোওয়েভ কেন দৃষ্টিরেখা (Line-of-Sight) বরাবর চলে?

উত্তর: মাইক্রোওয়েভের তরঙ্গ উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির হওয়ায় এটি কোনো বাধা (যেমন- পাহাড় বা উঁচু ভবন) ভেদ করতে পারে না, তাই প্রেরক ও প্রাপক অ্যান্টেনার মধ্যে সরাসরি দৃশ্যমান সংযোগ থাকা জরুরি।

৬ অর্থনীতির জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং কেন সাশ্রয়ী?

উত্তর: ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ব্যবহারকারীকে শুধু যতটুকু রিসোর্স ব্যবহার করা হয় তার জন্যই টাকা দিতে হয় (Pay-as-you-go), কোনো বিশাল হার্ডওয়্যার কেনার প্রয়োজন নেই।

৬৯. জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের ভূমিকা কী?

উত্তর: এই স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর সাথে স্থির অবস্থানে থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে রেডিও সিগন্যাল আদান-প্রদান করতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ ও টিভি সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয়।

৭০. নেটওয়ার্ক টপোলজি নির্বাচনের সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়?

উত্তর: টপোলজি নির্বাচনের সময় নেটওয়ার্কের আকার, স্থাপনের খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের সহজতা, প্রয়োজনীয় গতি এবং নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করা হয়।

Comments

Popular posts from this blog

১ম অধ্যায়ের সকল জ্ঞানমূলক এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর ।। Raihans Academy

এইচএসসি আইসিটি ২য় অধ্যায় এর প্র্যাকটিস অংশ। Raihans Academy