তৃতীয় অধ্যায় (সংখ্যা পদ্ধতি) অংশের সকল জ্ঞানমূলক এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর || Raihans Academy

অধ্যায় ৩: জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান-১)

১. সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি কী? [cite: 66]
উত্তর: কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট অংক বা প্রতীকসমূহের সংখ্যাকে ঐ সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বা বেস (Base) বলে।
২. র‍্যাডক্স পয়েন্ট কী? [cite: 67]
উত্তর: পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশকে আলাদা করার জন্য যে চিহ্ন বা বিন্দু ব্যবহার করা হয়, তাকে র‍্যাডক্স পয়েন্ট বলে।
৩. সংখ্যা পদ্ধতি বলতে কী বুঝ? [cite: 68]
উত্তর: বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন বা অংক ব্যবহার করে সংখ্যা লেখা বা প্রকাশ করার পদ্ধতিকে সংখ্যা পদ্ধতি বলে। [cite: 144, 145]
৪. পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি কী? [cite: 69]
উত্তর: যে সংখ্যা পদ্ধতিতে অংকের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তার মান পরিবর্তিত হয়, তাকে পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি বলে।
৫. বিট কী? [cite: 70]
উত্তর: বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ০ এবং ১ এই দুটি অংককে বিট (Binary Digit) বলা হয়।
৬. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি কী? [cite: 71]
উত্তর: যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মাত্র দুটি অংক (০ ও ১) ব্যবহৃত হয় এবং যার ভিত্তি ২, তাকে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বলে।
৭. ডিজিট বা অংক কী? [cite: 72]
উত্তর: সংখ্যা তৈরির ক্ষুদ্রতম প্রতীক বা চিহ্নকে অংক বা ডিজিট বলা হয়। [cite: 146]
৮. নিবল কী? [cite: 73]
উত্তর: চারটি বিটের সমষ্টিকে একত্রে নিবল (Nibble) বলা হয়।
৯. সংখ্যা পদ্ধতির প্রকারভেদ দুটি কী? [cite: 74]
উত্তর: সংখ্যা পদ্ধতির প্রধান দুটি প্রকার হলো পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি ও নন-পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি।
১০. বাইট কী? [cite: 75]
উত্তর: আটটি বিটের সমষ্টিকে একত্রে ১ বাইট (Byte) বলা হয়।
১১. হেক্সাডেসিম্যাল সংখ্যা পদ্ধতি কী? [cite: 76]
উত্তর: যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট ১৬টি অংক বা চিহ্ন (০-৯ এবং A-F) ব্যবহৃত হয় এবং যার ভিত্তি ১৬, তাকে হেক্সাডেসিম্যাল সংখ্যা পদ্ধতি বলে। [cite: 155]
১২. ২-এর পরিপূরক কী? [cite: 79]
উত্তর: কোনো বাইনারি সংখ্যার ১-এর পরিপূরকের সাথে ১ যোগ করলে যে মান পাওয়া যায় তাকে ২-এর পরিপূরক বলে।
১৩. চিহ্নযুক্ত সংখ্যা কাকে বলে? [cite: 80]
উত্তর: সংখ্যার ধনাত্মক বা ঋণাত্মক বোঝানোর জন্য যে চিহ্ন (যেমন + বা -) বা সাইন বিট ব্যবহৃত হয়, তাকে চিহ্নযুক্ত সংখ্যা বলে।
১৪. ১-এর পরিপূরক কী? [cite: 81]
উত্তর: বাইনারি সংখ্যার প্রতিটি বিটকে উল্টে দেওয়াকে (অর্থাৎ ০ এর জায়গায় ১ এবং ১ এর জায়গায় ০ বসানো) ১-এর পরিপূরক বলে।
১৫. ASCII কী? [cite: 88]
উত্তর: ASCII (American Standard Code for Information Interchange) হলো একটি বহুল ব্যবহৃত আলফানিউমেরিক কোড যা ইংরেজি বর্ণমালা ও অন্যান্য চিহ্নকে কম্পিউটারে প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১৬. কোড কী? [cite: 89]
উত্তর: কম্পিউটারে ব্যবহৃত বর্ণ, অংক বা বিশেষ চিহ্নকে অদ্বিতীয় বাইনারি বিটে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে কোড বলে।
১৭. ইউনিকোড কী? [cite: 90]
উত্তর: বিশ্বের ছোট-বড় সকল ভাষাকে কম্পিউটারে কোডভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ১৬ বিটের অদ্বিতীয় কোডকে ইউনিকোড বলা হয়।
১৮. EBCDIC কী? [cite: 91]
উত্তর: EBCDIC (Extended Binary Coded Decimal Interchange Code) হলো আইবিএম (IBM) কম্পিউটারে ব্যবহৃত একটি ৮-বিটের আলফানিউমেরিক কোড।
১৯. বিসিডি (BCD) কী? [cite: 92]
উত্তর: দশমিক সংখ্যার প্রতিটি অংককে সমতুল্য ৪-বিটের বাইনারি কোডে প্রকাশ করাকে BCD (Binary Coded Decimal) বলে।

অধ্যায় ৩: অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (১-৩৮) - মান-২

১. ৩+৩+৩=১১ কীভাবে সম্ভব? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: গাণিতিক এই হিসাবটি অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে সম্ভব। সাধারণ দশমিক পদ্ধতিতে ৩+৩+৩ = ৯ হয়। কিন্তু অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি হলো ৮, যেখানে ৮ এর পরিবর্তে ১০ এবং ৯ এর পরিবর্তে ১১ লেখা হয়। যেহেতু অক্টাল পদ্ধতিতে ৮ এবং ৯ অংক দুটি নেই, তাই ৩+৩+৩ যোগ করলে ফলাফল ১১ হয়।

২. ৮+৮=১০ হয়— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এই যোগফলটি হেক্সাডেসিম্যাল সংখ্যা পদ্ধতিতে সঠিক। হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতির ভিত্তি হলো ১৬। দশমিক পদ্ধতিতে ৮+৮=১৬ হয়, কিন্তু হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতিতে ১৬ এর সমতুল্য মান হলো ১০। কারণ এই পদ্ধতিতে ১৫ পর্যন্ত অংক (০-৯ এবং A-F) ব্যবহারের পর ১৬ তম মানটি পুনরায় ১০ থেকে শুরু হয়।

৩. ১৮ কি একটি অক্টাল সংখ্যা?

উত্তর: না, ১৮ একটি অক্টাল সংখ্যা হতে পারে না। অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত অংকগুলো হলো ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭। অর্থাৎ এই পদ্ধতির ভিত্তি ৮ এবং এখানে ৭ এর চেয়ে বড় কোনো অংক নেই। যেহেতু ১৮ সংখ্যাটিতে '৮' অংকটি বিদ্যমান, তাই এটি অক্টাল নিয়মের বহির্ভূত।

৪. ৭ এর পরবর্তী সংখ্যাটি ১০— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এটি অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অক্টাল পদ্ধতিতে মোট আটটি অংক (০-৭) থাকে। যখন আমরা সর্বশেষ অংক ৭ এর সাথে ১ যোগ করি, তখন সংখ্যা পদ্ধতিটি তার ভিত্তি পূর্ণ করে এবং পরবর্তী স্থানে ১ চলে আসে ও বর্তমান স্থানটি ০ হয়ে যায়। ফলে অক্টাল পদ্ধতিতে ৭ এর পরবর্তী সংখ্যাটি ১০ হয়।

৫. ৯৯+১=১০০ হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এটি পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতির একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। দশমিক সংখ্যা পদ্ধতিতে যখন দুই অংকের বৃহত্তম সংখ্যা ৯৯ এর সাথে ১ যোগ করা হয়, তখন অংকগুলো তাদের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে এবং হাতে থাকা ক্যারি (Carry) বামের ঘরে যোগ হয়ে তিন অংকের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ১০০ গঠন করে।

৬. ১৭ এর পরের সংখ্যাটি ২০— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: অক্টাল পদ্ধতিতে ১৭ এর পরবর্তী সংখ্যা ২০ হয়। কারণ অক্টালে ৭ এর পরে ৮ বা ৯ বলতে কোনো অংক নেই। ১৭ এর একক ঘরের ৭ এর সাথে ১ যোগ করলে ফলাফল হয় ১০, যার ০ বসে এবং ১ ক্যারি থাকে। এই ক্যারি দশকের ঘরের ১ এর সাথে যোগ হয়ে ২ হয়। ফলে ফলাফল ২০ হয়।

৭. পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে একটি সংখ্যার মান বের করতে কী প্রয়োজন?

উত্তর: পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে একটি সংখ্যার মান নির্ভুলভাবে বের করার জন্য প্রধানত তিনটি বিষয় প্রয়োজন:
১. অংকটির নিজস্ব মান (Intrinsic Value)।
২. সংখ্যা পদ্ধতিটির ভিত্তি বা বেস (Base)।
৩. সংখ্যাটিতে অংকটির অবস্থান বা স্থানীয় মান (Positional Value)।

৮. ৯+১=২০ কীভাবে সম্ভব তা দেখাও।

উত্তর: এটি বিশেষ ক্ষেত্রে সম্ভব যদি আমরা এমন একটি সংখ্যা পদ্ধতি কল্পনা করি যার ভিত্তি হলো ৫। তবে প্রচলিত কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ৯+১ সরাসরি ২০ হয় না। এটি মূলত কোনো লজিক্যাল বা কোডিং ধাঁধা হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেখানে স্থানীয় মানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।

৯. ৫+৩=১০ কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ৫+৩=১০ হিসাবটি অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে সঠিক। অক্টাল পদ্ধতিতে ৫ এবং ৩ যোগ করলে দশমিকের মান অনুযায়ী ৮ হয়। যেহেতু অক্টাল পদ্ধতিতে ৮ অংকটি নেই এবং এর ভিত্তি ৮, তাই ৮ কে অক্টালে রূপান্তর করলে ১০ পাওয়া যায়। অর্থাৎ অক্টালে ৮ এর মানই হলো ১০।

১০. ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যবহৃত সংখ্যা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ডিজিটাল ডিভাইসে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এর কারণ হলো ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স মূলত বিদ্যুতের দুটি অবস্থার (On/Off বা High/Low Voltage) ওপর ভিত্তি করে চলে। বাইনারি পদ্ধতির ০ এবং ১ এই দুটি অংক খুব সহজেই বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ দিয়ে প্রকাশ করা যায়, যা নির্ভুল ও সাশ্রয়ী।

১১. ৯+৭=১০ সম্ভব কি-না? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: হ্যাঁ, হেক্সাডেসিম্যাল সংখ্যা পদ্ধতিতে ৯+৭=১০ সম্ভব। কারণ হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতির ভিত্তি হলো ১৬। আমরা জানি দশমিকে ৯+৭=১৬ হয়। হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতিতে ১৬ এর সমতুল্য মান হলো ১০। তাই হেক্সাডেসিম্যাল নিয়মে এই হিসাবটি একদম সঠিক।

১২. (১১) সংখ্যাটি পজিশনাল সংখ্যা বলা হয় কেন?

উত্তর: (১১) সংখ্যাটিতে ব্যবহৃত দুটি অংকই '১' হলেও তাদের মান ভিন্ন। ডানের ১ এর স্থানীয় মান ১ এবং বামের ১ এর স্থানীয় মান ১০ (দশমিকে)। যেহেতু অংকের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এর সামগ্রিক মান পরিবর্তিত হয়, তাই একে পজিশনাল সংখ্যা বলা হয়।

১৩. কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগন্যাল উপযোগী কেন?

উত্তর: ডিজিটাল সিগন্যাল মূলত বিচ্ছিন্ন (Discrete) মান বা ০ ও ১ ব্যবহার করে কাজ করে। এনালগ সিগন্যালের তুলনায় ডিজিটাল সিগন্যালে নয়েজ বা বাধা কম থাকে এবং এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। কম্পিউটারের প্রসেসর খুব দ্রুত এই সিগন্যাল প্রসেস করতে পারে বলে এটি উপযোগী।

১৪. 3D/5D কোন ধরনের সংখ্যা? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: 3D বা 5D হলো হেক্সাডেসিম্যাল সংখ্যা। কারণ এই সংখ্যা পদ্ধতিতে ০-৯ পর্যন্ত দশটি অংক এবং A-F পর্যন্ত ছয়টি ইংরেজি বর্ণ ব্যবহৃত হয়। এখানে 'D' বর্ণটি হেক্সাডেসিম্যাল অংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার দশমিক মান ১৩।

১৫. ১০০০ সংখ্যাটি সঠিক কি-না— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ১০০০ সংখ্যাটি যেকোনো পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে (বাইনারি, অক্টাল, দশমিক বা হেক্সাডেসিম্যাল) সঠিক। কারণ এই অংকগুলো সব পদ্ধতিতেই বিদ্যমান। তবে এর ভিত্তি উল্লেখ না থাকলে এর প্রকৃত মান বোঝা সম্ভব নয়।

১৬. "অক্টাল তিন বিটের কোড" বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি হলো ৮ (২ এর পাওয়ার ৩)। এই পদ্ধতির বৃহত্তম অংক হলো ৭, যাকে বাইনারিতে প্রকাশ করতে সর্বোচ্চ তিনটি বিট (১১১) প্রয়োজন হয়। এই কারণে অক্টাল সংখ্যাকে তিন বিটের কোড বলা হয়।

১৭. (২৬৯)১০ সংখ্যাকে কম্পিউটার সরাসরি গ্রহণ করে না— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কম্পিউটার শুধুমাত্র বাইনারি ভাষা বা ০ এবং ১ এর সংকেত বুঝতে পারে। (২৬৯)১০ একটি দশমিক সংখ্যা যা মানুষের ভাষা। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এই দশমিক অংকগুলো সরাসরি চিনতে পারে না বিধায় একে আগে বাইনারিতে রূপান্তর করতে হয়।

১৮. ডিজিটাল ডিভাইসে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাইনারি পদ্ধতি ডিজিটাল ডিভাইসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বৈদ্যুতিক সংকেতের দুটি অবস্থার (On ও Off) সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া বাইনারি লজিক ব্যবহার করে খুব সহজে জটিল গাণিতিক ও যৌক্তিক অপারেশন সম্পন্ন করা যায়।

১৯. "হেক্সাডেসিম্যাল চার বিটের কোড" ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতির ভিত্তি হলো ১৬ (২ এর পাওয়ার ৪)। এই পদ্ধতির বৃহত্তম অংক F বা ১৫ কে বাইনারিতে প্রকাশ করতে ৪টি বিট (১১১১) প্রয়োজন। একারণে হেক্সাডেসিম্যালকে চার বিটের কোড বলা হয়।

২০. বাইনারি পদ্ধতিতে স্থানীয় মান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বাইনারি সংখ্যায় প্রতিটি বিট তার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে যে মান বহন করে তাকে স্থানীয় মান বলে। এটি ২ এর ঘাত বা পাওয়ার (যেমন- 2^0, 2^1, 2^2...) অনুযায়ী ডানে থেকে বামে বৃদ্ধি পায়।

২১. কম্পিউটার কেন ডিজিটাল সিগনাল ছাড়া কাজ করতে পারে না?

উত্তর: কম্পিউটারের মূল যন্ত্রাংশ হলো ট্রানজিস্টর যা সুইচ হিসেবে কাজ করে। এটি শুধুমাত্র 'আছে' অথবা 'নেই'—এই দুটি অবস্থা বোঝে। ডিজিটাল সিগন্যাল এই ০ ও ১ ব্যবহার করে সেই সংকেত দেয়, যা ছাড়া কম্পিউটার ডেটা প্রসেস করতে অক্ষম।

২২. বিট ও বাইট এক নয় কেন?

উত্তর: বিট হলো মেমরির ক্ষুদ্রতম একক যা ০ অথবা ১ হতে পারে। অন্যদিকে, ৮টি বিট একত্রে মিলে তৈরি হয় ১ বাইট। বিট দিয়ে সিগন্যাল বোঝানো হয়, আর বাইট দিয়ে ক্যারেক্টার বা ডেটার আকার বোঝানো হয়।

২৩. কম্পিউটারের ডেসিম্যাল সংখ্যাকে বাইনারিতে রূপান্তর করা প্রয়োজন কেন?

উত্তর: মানুষ সাধারণত দশমিক সংখ্যা ব্যবহার করে, কিন্তু কম্পিউটার শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক সংকেত বা বাইনারি বুঝতে পারে। তাই মানুষের দেওয়া নির্দেশ বা ডেটা প্রসেস করার জন্য কম্পিউটারকে তা বাইনারিতে রূপান্তর করে নিতে হয়।

২৪. বিয়োগের কাজ যোগের মাধ্যমে করা সম্ভব— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ২-এর পরিপূরক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিয়োগের কাজ যোগের মাধ্যমে করা যায়। এক্ষেত্রে যে সংখ্যাটি বিয়োগ করতে হবে তার ঋণাত্মক মান (২-এর পরিপূরক) বের করে অন্য সংখ্যার সাথে যোগ করলেই ফলাফল পাওয়া যায়। এতে বিয়োগের জন্য আলাদা সার্কিট লাগে না।

২৫. ২-এর পরিপূরক ডিজিটাল বর্তনীকে সরল করে— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ২-এর পরিপূরক ব্যবহার করলে কম্পিউটার শুধুমাত্র একটি 'এ্যাডার' (Adder) সার্কিট দিয়েই যোগ ও বিয়োগ উভয় কাজ করতে পারে। বিয়োগের জন্য আলাদা 'সাবট্রাক্টর' সার্কিট তৈরি করতে হয় না বলে হার্ডওয়্যারের গঠন সরল ও সাশ্রয়ী হয়।

২৬. "২-এর পরিপূরক করলে সংখ্যার শুধুমাত্র চিহ্নের পরিবর্তন হয়"— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ২-এর পরিপূরক মূলত একটি পজিটিভ বাইনারি সংখ্যাকে নেগেটিভ সংখ্যায় রূপান্তর করার পদ্ধতি। এতে সংখ্যার পরম মান অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু সাইন বিট পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি বিপরীত চিহ্নযুক্ত সংখ্যায় পরিণত হয়।

২৭. ২-এর পরিপূরক গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ডিজিটাল সিস্টেমে নেগেটিভ সংখ্যা প্রকাশ এবং বিয়োগের কাজ যোগের সার্কিট দিয়ে সম্পন্ন করার জন্য ২-এর পরিপূরক প্রয়োজন। এটি ক্যালকুলেশনকে দ্রুত করে এবং হার্ডওয়্যার খরচ কমিয়ে আনে।

২৮. চিহ্নযুক্ত সংখ্যা বলতে কী বোঝো? ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর: যেসব সংখ্যার মাধ্যমে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক মান প্রকাশ করা হয় তাদের চিহ্নযুক্ত সংখ্যা বলে। কম্পিউটারে সাধারণত সংখ্যার বামের প্রথম বিটটি (সাইন বিট) ০ হলে ধনাত্মক এবং ১ হলে ঋণাত্মক ধরা হয়।

২৯. ১+১=১০ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এটি বাইনারি যোগের একটি নিয়ম। দশমিক পদ্ধতিতে ১+১=২ হয়, কিন্তু বাইনারি পদ্ধতিতে '২' বলতে কোনো অংক নেই। বাইনারিতে ২ এর সমতুল্য মান হলো ১০। তাই বাইনারি যোগে ১+১=১০ লেখা হয়।

৩০. বিশ্বের সকল ভাষাকে কোডভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ১৬-বিটের ইউনিকোড (Unicode) আসার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। ইউনিকোড ব্যবহার করে ৬৫,৫৩৬টি অদ্বিতীয় চিহ্ন প্রকাশ করা যায়, যা বিশ্বের সকল ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ভাষার বর্ণমালাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যথেষ্ট।

৩১. ASCII কোড একটি আলফানিউমেরিক কোড— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ASCII কোড একইসাথে বর্ণ (Alphabets), অংক (Numbers) এবং বিভিন্ন বিশেষ চিহ্নকে (Symbols) বাইনারিতে প্রকাশ করতে পারে। যেহেতু এটি বর্ণ ও সংখ্যার সমন্বয়, তাই একে আলফানিউমেরিক কোড বলা হয়।

৩২. ৪ বিটের কোডটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: BCD (Binary Coded Decimal) হলো একটি ৪ বিটের কোড। এতে দশমিক পদ্ধতির প্রতিটি অংককে (০-৯) আলাদাভাবে সমতুল্য ৪টি বাইনারি বিট দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এটি মূলত কম্পিউটারে ইনপুট ও আউটপুট দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।

৩৩. বাইনারি ও বিসিডি এক নয়— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাইনারি হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা পদ্ধতি যার ভিত্তি ২। কিন্তু BCD শুধুমাত্র একটি কোডিং সিস্টেম যেখানে দশমিক অংককে বাইনারি বিটে রিপ্রেজেন্ট করা হয়। বাইনারি রূপান্তরে সংখ্যার প্রকৃত মান সরাসরি পাওয়া যায়, কিন্তু BCD-তে তা হয় না।

৩৪. বহুল ব্যবহৃত বিট কোডটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিট কোড হলো ASCII এবং ইউনিকোড। বিশেষ করে পিসি ও মাইক্রোকম্পিউটারে ASCII-৮ এবং ইন্টারনেটে ও সব ভাষার ক্ষেত্রে ইউনিকোড বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।

৩৫. ইউনিকোড 'বাংলা' ভাষা বুঝতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ইউনিকোডে বিশ্বের প্রায় সব ভাষার বর্ণমালার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও অদ্বিতীয় অংক (Code Point) নির্ধারিত আছে। বাংলার প্রতিটি বর্ণ এবং কার-ফলার জন্যও ইউনিকোডে আলাদা জায়গা আছে, যার ফলে কম্পিউটার বাংলা ভাষা প্রসেস ও প্রদর্শন করতে পারে।

৩৬. ইউনিকোডের পূর্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আলফানিউমেরিক কোডটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ইউনিকোড জনপ্রিয় হওয়ার আগে সারাবিশ্বে ASCII (American Standard Code for Information Interchange) কোড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো। এটি ৭ বা ৮ বিটের মাধ্যমে শুধুমাত্র ইংরেজি বর্ণমালা ও সাধারণ কিছু চিহ্ন প্রকাশ করতে পারত।

৩৭. BCD কোনো সংখ্যা পদ্ধতি নয়— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কোনো সংখ্যা পদ্ধতি হতে হলে তার নিজস্ব ভিত্তি ও গাণিতিক নিয়ম থাকতে হয়। BCD-এর নিজস্ব কোনো ভিত্তি নেই; এটি শুধুমাত্র দশমিক অংকগুলোকে ৪-বিটের বাইনারি গ্রুপে সাজানোর একটি নিয়ম বা কোড। তাই একে সংখ্যা পদ্ধতি বলা যায় না।

৩৮. ইউনিকোড বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষের জন্য আশীর্বাদ— বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: আগেকার কোডগুলো দিয়ে শুধুমাত্র ইংরেজি বা সীমিত কিছু ভাষা ব্যবহার করা যেত। কিন্তু ইউনিকোড আসার পর পৃথিবীর সব ছোট-বড় ভাষা কম্পিউটারে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির সুফল সবাই নিজের ভাষায় ভোগ করতে পারছে, যা আধুনিক বিশ্বের জন্য একটি আশীর্বাদ।

Comments

Popular posts from this blog

১ম অধ্যায়ের সকল জ্ঞানমূলক এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর ।। Raihans Academy

এইচএসসি আইসিটি ২য় অধ্যায় এর প্র্যাকটিস অংশ। Raihans Academy

২য় অধ্যায়ের সকল জ্ঞানমূলক এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর ।। Raihans Academy